আজ ফজরের নামাজের ওয়াক্ত শুরু ও শেষ
আসসালামু আলাইকুম পাটোয়ার জন্য আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন। আজকে আমরা ফজরের নামাজের ওয়াক্ত শুরু ও শেষ সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো। এই সকল বিষয় সঠিক তথ্য জানতে নিচের পুষ্টি মনোযোগ সহকারে পড়ি:
আমাদের সকলের মনে একটাই প্রশ্ন থাকে যে ফজরের নামাজ পড়লে কি হবে? এবং কোন ব্যক্তি যদি না পড়ে তাহলে কি হবে? চলুন আমরা এই সকল বিষয়ে সঠিক তথ্যগুলো জেনে নেই। এর অর্থ হল ফজরের নামাজ অথবা সালাত আদায়ের গুরুত্ব সম্পর্কে জেনে নেওয়া। আমরা সকলে জানি ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ হল পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া। আর এটি মুসলমানদের জন্য একটি ফরজ কাজ।
আজ ফজরের ওয়াক্ত শুরু শেষ
আল্লাহ তায়ালা সমগ্র পৃথিবীকে রহমত এবং ফজিলত দ্বারা পূরণ করে রেখেছেন। আমরা সেগুলো কিভাবে নিজের করে নিতে পারি সেটাই আমাদের করণীয়। প্রত্যেক মুসলমানের ওপর একইভাবে নামাজের আদায় করলে কিছু ফজিলত আল্লাহর নিকট হতে পাওয়া যায়।
আর এই নামাজের মধ্যে সবচেয়ে ফজিলতময় সালাত হলো ফজরের নামাজ। আজকে ফজরের নামাজ আদায় করার সঠিক সময় হলো ভোর ৪:২০ হতে শুরু এবং শেষ হবে ঠিক ৫:৪০মিনিটে সূর্যোদয়ের সময়।
এছাড়াও আমরা যদি সকলে প্রত্যেকদিন প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচী জানতে চায় তাহলে আমাদের ফোনের প্লে স্টোরে কিছু অ্যাপস রয়েছে সেগুলো দিয়ে আমরা ফজর যোহর আসর এবং মাগরিব সহ এশার নামাজের সকল নামাজের ওয়াক্ত গুলো সঠিকভাবে জানতে পারব।
ফজরের নামাজ পড়লে কি হবে? না পড়লে কি হবে
সূরা বনী ইসরাইলে বর্ণিত রয়েছে যে হে আমার মুমিনগণ তোমরা সকলেই নামাজ কায়েম করো সূর্য ঢলে পড়ার পর এবং রাত যখন অন্ধকার এবং ও গভীর হয়ে যায়। এর সাথে কিন্তু তোমরা ফজরের নামাজ কায়েম করার কথা ভুলে যেও না। কেননা নিশ্চয়ই হয়তো ফজরের নামাজ উপস্থিতির একটি সময়। আয়াতঃ৭৮।
এছাড়াও আরো বলেছেন মুমিন ব্যক্তিগণ নামাজের মধ্যে যেমন ফরজের একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে ঠিক অপরদিকেও কিন্তু ফজরের সালাতের সময় রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। মুমিন ব্যক্তিগণ হয়তো জানে যে আমাদের পবিত্র কোরআন শরীফের মধ্যে একটি ফজর নামে একটি সূরা রয়েছে। মহান আল্লাহ তায়ালা এখানে ইরশাদ করেছেন যে ফজরের হাদিসের ফজরের নামাজের বিশেষ তাগিদ রয়েছে সকল সালাতের মধ্যে। ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু তা আলা আনহু থেকে বর্ণিত রয়েছে যে মহামাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন যে মুমিন ব্যক্তি ফজরের নামাজ পড়বে হে আল্লাহ তায়ালার জিম্মায় থাকিবে। (মুসলিম হাদিস ৬৫৭ নাম্বার আয়াত)
আরো একটি হাদিস রয়েছে যেখানে ফজরের নামাজ কোন ব্যক্তি যদি জামাই তা আদায় করে তাহলে সেই ব্যক্তিকে জান্নাতি মানুষ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এছাড়াও আবু মুসা আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বলেছেন যে যে সকল ব্যক্তি শিথিল সময়ে নামাজ আদায় করবে অর্থাৎ ফজরে এবং এশার সময় শীতকালে বা শীতের সময় নামাজ আদায় করবে সে সকল ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে।
ফরজে নামাজ জামাতে আদায় করলে যে সকল পুরস্কার
আমরা ইতিমধ্যে অবগত হয়েছি যে ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করলে আল্লাহ তা'আলা আমাদের বিশেষ পুরস্কার দিয়ে থাকেন। নিম্নে ফজরের নামাজ আদায়কারীর ১০ টি পুরস্কার সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত বর্ণনা করে থাকবঃকোন ব্যক্তি যদি ফজরের নামাজে জামায়াতে দাঁড়ায় তাহলে সারারাত দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার সমান। এছাড়াও যে ব্যক্তি এশার নামাজ জামাতে আদায় করবে সে যেন অর্ধেক রাত জেগে নামাজ পড়ার সওয়াব বা পূর্ণ আদায় করবে। এবং ফজরের সময় যে ব্যক্তি ফজরের নামাজের জামাতে দাঁড়িয়ে আদায় করবে সেও সম্পূর্ণ রাত নামাজ পড়ার সমতুল্য হবে।
আমরা প্রত্যেক মুসলমান ব্যক্তি জানি যে একদিন কেয়ামত সংঘটিত হবে। আর এই কিয়ামতের দিন ফজরের নামাজ আদায়কারীদের হয়ে দেখা দিবে। তাদেরকে আল্লাহ তা'আলা পরিপূর্ণ নুর প্রাপ্তির সুসংবাদ দিয়ে দিয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামায়াজ আদায় করবে শেষ সারাদিন আল্লাহ তাআলা জিম্মায় থাকিবে। (মুসলিম শরীফ)
যে সকল ব্যক্তি সরাসরি জান্নাতে প্রবেশ ও প্রাপ্তিদের থাকবে সে সকল ব্যক্তি দুই শিথির নামাজ পড়েই জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর এই দুইটি নামাজ হইল ফজরের ও আসরের সালাত । (বুখারী)
রিজিকে বরকত -আল্লামা ইবনুল কাইয়ুম রাহিমাতুল্লাহ ইরশাদ করেছেন সকাল বেলার ঘুম ঘরে রিজিক আসতে বাধা দেয় কেননা আল্লাহতালা তখনই রিজিক বন্টন করে থাকেন।
মুমিন ব্যক্তিগণ যারা ফজরের সালাত আদায় করবে তারা দুনিয়াতে এবং আখিরাতে সেরা বস্তু অর্জন করবে। কেননা আমরা সকলেই জানি যে ফজরে দুই রাকাত নামাজ বা সালাত এই সমগ্র দুনিয়া এবং তার মধ্যে যে সকল কিছু রয়েছে তার চেয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্ব উত্তম।
ফরজ নামাজ আদায় না করার জন্য যে সকল গুনহা
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url