আপেল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে
আসসালামু আলাইকুম প্রিয় পাঠক বৃন্দ আপনারা সবাই কি আপেল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন? কিন্তু কোথাও সঠিক উত্তরটি খুঁজে পাচ্ছেন না | এই পোস্টটির মাধ্যমে আমরা আপেলের উপকারিতা অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানব | চলুন পোস্টটি আমরা মনোযোগ সহকারে পড়ি
এই পোস্টের মাধ্যমে আমরা আরো জানতে পারবো আপেল কি আপেলের চিটার ভিনেগার কি, আপেলের উপকারিতা অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত, এবং আপেল সিরাপ খেলে কি কোন ক্ষতি হয় | এছাড়াও আরো জানবো আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়ার নিয়ম এবং উপকারিতা , আপেল বর্তমানে কত টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে সেই সম্পর্ক বিস্তারিত জানবো । এই সকল বিষয়ে সঠিক তথ্য জানতে হলে আমরা মনোযোগ সহকারে পোস্টটি পড়বো। চলুন আমরা পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ি এবং এর বিস্তারিত সকল সঠিক তথ্যগুলো জেনে নেই।
আপেল কি
আপেল শব্দটি এসেছে প্রোটো জার্মানিক বিশেষ্য aplaz থেকে।আপেল একটি পুষ্টিকর ফল।এটি একটি বৃত্তাকার,ভোজ্য ফল যা আপেল গাছ দ্বারা উৎপন্ন হয়। বিশ্বের প্রতিটি দেশেই আপেল একটি সহজলভ্য একটি ফল।প্রত্যেকটি দেশেই আপেল সুলভ মূল্যে পাওয়া যায়।
এটি রোসাসি পরিবারের মেলিয়াস ডমেস্টিকা প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। আপেলের মিষ্টি স্বাদের জন্য এটি বিশ্বব্যাপী পরিচিত। পুরো পৃথিবী জুড়ে আপেলের চাষ হয়ে থাকে এবং সবচেয়ে বেশি চাষকৃত প্রজাতি হচ্ছে জেনাস ম্যলুস।বহু বছর জুড়ে এশিয়া ও ইউরোপের মানুষ এটি চাষ হয়ে আসছে।ইউরোপীয় উপনিবেসবাদীদের দ্বারা এটি উত্তর আমেরিকায় প্রবর্তিত হয়েছে।
গ্রী ক নট এবং ইউরোপীয় খ্রিস্টান ঐতিহ্য সহ অনেক সংস্কৃতিতে এর পৌরাণিক এবং ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে।এটি স্বাদের জন্য বিশ্ব জুড়ে অনেক জনপ্রিয় একটি ফল। মূলের কলমের মাধ্যমে এর বিভিন্ন জাত তৈরি করা হয়। এই পর্যন্ত আপেলের ৭৪০০-৭৫০০ টি জাত আবিষ্কৃত হয়েছে।
যেসব আপেল ২০ থেকে জন্মে সেসব আপেল গুলি মাতা পিতার থেকে খুব ভিন্নধর্মী হয়ে থাকে এবং এসব ফলগুলিতে বেশিরভাগ পছন্দের বৈশিষ্ট্য অনুপস্থিত থাকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যের পাশাপাশি বোটানিক্যাল মূল্যায়ন সহ আপেলের চাষগুলি রুট স্টক এর ওপর ক্লোনাল গ্রাফটিং দ্বারা প্রচার করা হয়ে থাকে।
যদি রুটস্টক ছাড়া আপেল জন্মানো হয় তাহলে রোপনের পর গাছ অনেক বড় হয় এবং ধীর গতিতে ফল দিয়ে থাকে।গাছের আকার নিয়ন্ত্রণ করতে নিয়ন্ত্রণ করতে রুট স্টক গুলির বৃদ্ধির গতি এবং ফলের আকার লক্ষ্য করা হয়।
আপেল রান্না সহ কাঁচা খাওয়া এবং সিডার বা আপেলের রস উপাদান সহ বিভিন্ন স্বাদ ও ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন রকমের আপেলের জাত প্রজনন করা হয়ে থাকে।আপেলের গাছ এবং আপেল ব্যাকটেরিয়া কীটপতঙ্গ এবং ছত্রাক সহ অন্যান্য অনুজীবের সমস্যা প্রবন যা বিভিন্ন রকমের উপাদান দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকে।
২০১০ সালে আপেলের সেকুয়েন্সইং করা হয়েছিল। যার ফলে আপেলের বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচনী প্রজননের ওপর গবেষণা করা সম্ভব হয়েছিল। ২০২১ সালে পুরো বিশ্ব জুড়ে আপেলের উৎপাদন হয়েছিল ৯৩ মিলিয়ন টন যেখানে চীনে চাষকৃত আপেলের পরিমাণ ছিল এর অর্ধেক। সুতরাং চীনের সবথেকে বেশি আপেল চাষ হয়
আপেল সিডার ভিনেগার
ভেজানো আপেলের রস থেকে তৈরি ভিনেগার হল আপেল সিডার ভিনেগার অথবা সিডার ভিনেগার।
সালাদ ড্রিঙ্কস, মেরিনেটস, ভিনাইগ্রেটস, ফুড প্রিজারভস এবং চাটনিতে ব্যবহার করা হয়। এটি তৈরির ক্ষেত্রে প্রথমে আপেল পিষে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে এর রস বের করে নেওয়া হয়।
আপেল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
সম্মানিত পাঠক বৃন্দ এখন আমরা আপেলের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানব। আপেল যে শুধু আমাদের দেহের উপকারিতা করে তেমন নয় এরঅপকারীতাও হয়েছে। সব কিছুরই উভয় দিক রয়েছে। ঠিক সেই ভাবে আপেলের উভয় দিক রয়েছে একটি হলো উপকারিতা ও অপরটি হলো অপকারি। কিন্তু এটা জেনে অবাক হবেন যে এর অপকারিতা গুলো খুবই সামান্য। আমরা সর্বপ্রথম এর উপকারিতা গুলো সম্পর্কে জেনে নেইঃ
আপেলের অনেক গুণ রয়েছে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আপেলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নিয়মিত আপেল খেলে অনেক রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
- প্রতিদিন আপেল খেলে কমবে হৃদরোগের ঝুঁকি; নিয়মিত এটি খেলে শরীরের জন্য ক্ষতিকর কোলেস্টেরল দূর করা সম্ভব। যার ফলে হৃদরোগের ঝুঁকির আশঙ্কা অনেক কমে যায়
- আপেল হজমে সমস্যা দূর করে। আপেলে থাকা পেক্তির নামক উপাদান প্রিবায়োটিকের কাজ করে। যার ফলে হজমের সমস্যা দূর হয়।
- আপেলে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা মরণব্যাধি ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে।
- সাদা ঝকঝকে দাঁত পেতেও আপেলের উপকারিতা রয়েছে। দাঁতে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া আপেল ধ্বংস করে। ফলে ব্যাকটেরিয়া দাঁতের কোন ক্ষতি সাধন করতে পারে। যার কারণে দাঁত শক্ত ও মজবুত থাকে।
- কুয়েরসেটিন নামক এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আপেলে পাওয়া যায়। যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে এবং আমাদের শরীর ভালো রাখতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে।
- আপেলে থাকে ইন্সুলিনের পরিমাণ ঠিক রেখে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।তাছাড়া আপেলের মধ্যে যে ফাইবার থাকে,তা রক্তে শর্করার পরিমাণ সঠিক রাখতে সাহায্য করে
- ত্বক ভালো রাখার বহু গুণ আপেলের মধ্যে বিদ্যমান। এটি ত্বকের জেল্লা বাড়ায় এবং মলিন রাখতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে নিয়মিত আপেল খেলে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হয়। শুধু তাই নয়, সুস্থ থাকতে দিনে একটি আপেল খেলেই যথেষ্ট।
- #ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে আপেলের কার্যকরী ভূমিকা রয়েছে।
অপকারিতা
আপেলের অপকারিতার দিক খুবই কম, নেই বললেই চলে।তবে আপেল খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।আপেল উপকারী ফল হলেও আপেলের বীজ আমাদের শরীরের জন্য উপকারী নয়। এতে রয়েছে শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর সায়ানাইড নামক বিষ। ফলে এর বীজ খেলে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
আপেলিন সিরাপ খেলে কি ক্ষতি হয়
আমরা সকলে পাই অ্যাপেল ইন সিরাপের কথা শুনেছি। আমরা অনেকেই মনে করি এটি আমাদের বিয়ের জন্য অত্যন্ত উপকারী আবার অনেকেই মনে করি এটা খেলে আমাদের দেহের নানা রকম ক্ষতি হতে পারে। বিভিন্ন ধরনের ঔষধ অনেকদিন ধরে যাবত খাওয়ার পরে বিভিন্ন ধরনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
আপেলিন সিরাপ হলো এক ধরনের হামদাদ জাতীয় ওষুধ। যা আমাদের দেহের বিভিন্ন ধরনের উপকার করে থাকে। কিন্তু একটি ওষুধ দীর্ঘদিন যাবৎ না খেয়ে তা কোর্স কমপ্লিট করে পরবর্তী ওষুধটি সেবন করা উচ। কেননা আমরা সকলেই জানে একটি ওষুধ দীর্ঘদিন যাবত খাওয়ার ফলে আমাদের দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বিভিন্ন ধরনের রোগ বালাইয়ের আক্রমণ হতে পারে।
অ্যাপেল ইন সিরাপ খাওয়ার ফলে আমাদের দেহে কোন প্রকার ক্ষতি হয় না বরং এর উপকারী হয়। যেমন আমাদের দেহের হৃদপিণ্ডকে সচল রাখে, আমাদের দেহের এন্টিঅক্সিডেন্টকে বৃদ্ধি কর্। এছাড়াও আমাদের দেহের লিভারকে সচল রাখার ক্ষেত্রে এই সিরাপটি অত্যন্ত জরুরী।
এছাড়াও এই সিরাপ আমাদের জন্য আরও অনেক কাজ করে থাকে যেমন আমাদের মধ্যে কারো যদি দীর্ঘদিন যাবত মুখে অরুচি সহ আমাদের দেহের শারীরিক কর্মদক্ষতাকে বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই অ্যাপেল ইন সিরাপের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যাদের দেহে রক্তশূন্যতার মতন জটিল রোগ দেখা যায় এবং অনেকেরই আছে মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে তাদের জন্য এই অ্যাপেল ইন সিরাপটি উত্তম ।
এই সকল রোগের থেকে প্রশান্তি পাওয়ার কাজটি করে এই সিরাপ। তাহলে হয়তো বুঝতে পেরেছেন যে এই সিরাপ খেলে আপনার ক্ষতি হবে কিনা। আমরা সকলেই জানি যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যুক্ত খাবার আমাদের দেহের প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি সহ খুনিজ ভিটামিন যত আছে সবগুলোর ভরপুর প্রদান করে আমাদের শরীরে।
আর এটি আমরা এই অ্যাপেল ইন সিরাপ খাওয়ার ফলে আমাদের দেহে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট তৈরি হয় যার ফলে আমরা এটি ফ্রিতে পেয়ে থাকি আপনি এটিও বলতে পারেন যে এই সকল প্রকার ভিটামিন চাষের জন্য তৈরি করা হয় এই অ্যাপেল ইন সিরাপ। এখন পর্যন্ত আমাদের মধ্যে কেউ এই সিরাপটি খেয়ে অসুস্থ বা কারো ক্ষতি হয়নি এমনকি কারো দেহে কোন দেখা যায়নি। তাই বলতে পারেন এটি আমাদের দেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি সিরাপ।
সিরাপ খাওয়ার ফলে দেহে কোন প্রকার ক্ষতি তো হয় না কিন্তু এটার ফলে আমাদের দেহের ওজন বৃদ্ধি হতে পারে ।কারণ এই অ্যাপেল ইন সিরাপ খাওয়ার ফলে খাবার খাওয়ার রুচি অত্যন্ত বেড়ে যায় যার ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার ইচ্ছা জাগে । আপেলিন সিরাপ মূলত খাওয়া হই ওজন বৃদ্ধি করার জন্য। এছাড়া আর কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া এপিলেন্স সিরাপে নেই। তাহলে আমরা বলতে পারি যে অ্যাপিলিন সিরাপ আমাদের দেহের উপকারী হিসেবে কাজ করে।
আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা
অ্যাপেল সিডার আমাদের মধ্যে অনেক বহুল প্রচলিত একটি সিডার ভিনেগার। অ্যাপেল সিডার হলো মূলত এক ধরনের আপেলের থেকে তৈরি তরল ফার্ম্যান্টেন্ড জুস। আমরা প্রায় সকলেই জানি আপেলে এক ধরনের প্রাকৃতিক সুগার ফার্মেন্টেশন রয়েছে এবং এক ধরনের গাজন প্রক্রিয়ায় একটি অ্যালকোহলে পরিণত হয়।
আর মূলত এই অ্যালকোহল থেকেই এক ধরনের অ্যাসিটিক অ্যাসিড তৈরি করা হয়। অ্যাপেল সিডার বিভিন্ন রকমের ফর্মে পাওয়া যা। অর্থাৎ এটার বিভিন্ন ধরনের ভেরিয়েশন রয়েছে। এই অ্যাপেল সিডার মূলত আমরা সকলে পানির সাথে মিশিয়ে যেই অ্যাপেল সিডার খায় সেই গ্রুপের নাম হল মাদার গ্রুপ। এই অ্যাপেল সিডরের মাদার গ্রুপের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন রকমের প্রোটিন সহ আমাদের দেহের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া গ্রুপের মধ্যে অত্যন্ত বেশি পরিমাণ রয়েছে।
আপেল সিডার মূলত আমাদের দেহের ওজন কমানোর জন্য কাজ করে থাকে। এই অ্যাপেল সিডার খাওয়ার ফলে আমাদের স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে জীবন যাপন করার নিয়ম কে আরও সহজ করে দেয়। কিন্তু এই উপকারিতা ভোগ করার জন্য আমাদের অবশ্যই অবশ্যই স্বাস্থ্যসম্মত জীবন যাপন করার চেষ্টা করতে হবে।
এই এই স্বাস্থ্যসম্মত জীবন যাপন করতে হলে আমাদের নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার খেতে হবে ঘুমানোর বিষয়টি মেনে চলার সাথে সাথে এই অ্যাপেল সিডার গ্রহণ করলে আমাদের বিএমআর বৃদ্ধি করার পাশাপাশি ওজন কমাতে সাহায্য করবে। তবে একটি কথা মনে রাখতে হবে আমরা যদি এই ওপরে নিয়ম গুলো মেনে না চলি শুধু এই ভিনেগার খেয়ে যায় তাহলে আমাদের কখনোই ওজন কমবে না।
আমরা সকলেই ইতিমধ্যে জেনে গেছি যে আমাদের ওজন কমানোর ক্ষেত্রে আমরা যত বিএমআর এর মাত্রা বাড়াতে পারবো ততই আমাদের ওজন কমতে থাকবে। আর এরই জন্য আমরা বিএমআর বাড়ানোর ক্ষেত্রে লেবুর পানি সহ ডিটক্স ওয়াটার খেতে পারি অ্যাপেল সিডার এর সাথে । অ্যাপেল সিডার আমাদের দেহের হৃদযন্ত্রকে ভালো রাখার ক্ষেত্রে একটি বিশেষ ভূমিকা রাখে।
কেননা অ্যাপেল সিডার আমাদের দেহের রক্তের ক্লোরেস্ট্রল সহ রক্তের উচ্চ চাপের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের সাহায্য করে। হৃদরোগের ঝুকির কারণ হলো অতিরিক্ত কোলেস্টর অথবা হাই ব্লাড প্রেসার । আর এই সকল কিছু নিয়ন্ত্রণ রাখতে হলে আমাদের অ্যাপেল সিডার খাওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয় যার ফলে আমাদের হৃদযন্ত্র অনেকটা ভালো থাকে।
এছাড়াও আমাদের খাবারের হজম শক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অ্যাপেল সিডার কাজ করে থা। আমাদের মধ্যে অনেকেরই হজমের সমস্যা থাকতে পারে। যে সকল ব্যক্তির এই সমস্যা রয়েছে তারা খাবার আগে বা পরে যেকোনো সময় গরম পানির সাথে এক চা চামচ এই্র অ্যাপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে যদি খেতে পারে তাহলে সে অতি সহজেই তার এই হজমের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবে।
আমাদের দেহের খাবার হজমের জন্য যে সকল এনজাইম এবং এসিডের প্রয়োজন হয়ে থাকে সেগুলো এই অ্যাপেল সিডার ভিনেগার তার নিঃসরণ মাত্রাটা অত্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। আর এইমাত্র বৃদ্ধি হওয়ার কারণে অতি দ্রুত এবং সহজভাবে আমাদের খাদ্যটি হজম হতে পারে।
অ্যাপেল সিডার যে সকল ব্যক্তির জন্য বিষ
- যে সকল ব্যক্তির গলা দিয়ে টক পানি আসে ,তাদের গলা জ্বলা, সমস্যা রয়েছে তাদের এই সিরাপ না খাওয়াই উত্তম।
- আমাদের মধ্যে অনেকে আছে যাদের দেহে পটাশিয়ামের মাত্রা অত্যন্ত পরিমাণ কম থাকে এবং মাঝে মাঝে হঠাৎ করে কমে যায়, এক কথায় বলতে পারেন যাদের হাইপোক্যালেনিয়া রয়েছে তারা অবশ্যই ডাক্তারের বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই অ্যাপেল সিডার খাবেন না। কেননা এই অ্যাপেল সিডার আমাদের দেহের প্রশাসনের মাত্রা কমিয়ে দেয়।
- আমাদের মধ্যে অনেকেই ডায়াবেটিসের রোগী আছে যারা দুই বেলায় ইনসুলিন নিয়ে থাকেন তার পাশাপাশি সিডার ভিনেগার খান তাদের দেহের হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা দেহের সুগার লেভেল একদমই কমে যেতে পারে। এজন্যই যাদের এই ধরনের রোগ রয়েছে তারা এটি খাওয়া থেকে বিরত থাকাই আমি মনে করি উত্তম। একবার যদি দেহের সুগার লেভেল কমে যায় তাহলে আমরা মৃত্যুর মুখোমুখিও হতে পারেন। যাদের ইনসুলিন না নিয়ে শুধুমাত্র ওষুধের কাজ হয় তারা দিনে ইচ্ছা করলে একবার খেতে পারেন। তাও খাবার আগে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সেটি সেবন করতে হবে।
- অ্যাপেল সিডার ভিনেগার সে সকল মানুষের খাওয়া উচিত নয় যাদের দেহে এসিটিক পাথর কিডনিতে তৈরি হয়।
- আমাদের মধ্যে অনেকে আছে যাদের এলার্জি সমস্যা রয়েছে তারা এটি যতসম্মত ত্যাগ করার চেষ্টা করবেন।
- আমরা সকলেই জানি এই সিডার ভিনেগার হাতের বার ডেন্টাল সমস্যায় ভুক্তভোগী রোগীদের না খাওয়াই ভালো। কারণ এটিতে এক ধরনের এসিড তৈরি হয় যার ফলে আমাদের ডেন্টাল বা দাঁতের ভিতরে হয় বা গর্ত হয়ে এবং এনামেল হয়ে যাওয়া সম্ভাবনা অত্যন্ত পরিমাণ বেশি থাকে তাই আমরা এটি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করব।
- অ্যাপেল সিডার বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন বন মিনারেল ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ম্যাগনেসিয়াম ফসফরাস আমাদের দেহে শোষণ করতে বাধা দেয়। যা আমাদের দেহের হাড়ের সমস্যা বৃদ্ধি করতে থাকে। তাই যাদের হাড়ের সমস্যা রয়েছে তার এটি এড়িয়ে চলায় উত্তম হবে তাদের জন্য।
খালি পেটে আপেল খেলে কি হয়
আমরা সকলেই জানি ফল আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী একটি বস্তু। আমরা ইচ্ছে করলে তো আমাদের দৈনন্দিন খাবারের সাথে একটি করে আপেল খাওয়া আমাদের জন্য খুবই ভালো। আপেলের রয়েছে বিভিন্ন প্রকার পুষ্টি। এই পুষ্টির মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি, বি সিক্স, ম্যাগনেসিয়াম, ডায়েটারি ফাইবার, পটাশিয়া্ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যারোটিনয়েড,কাবস, ইত্যাদি।
কিন্তু আপেলও অম্লীয়। ৩.৫ মাত্রার পি এইচ রয়েছে আপেলে। যা তুলনামূলক লেবু বা অন্যান্য ফলের তুলনায় কিছু সংখ্যক কম অম্লীয়। কিন্তু আঙ্গু ও কলার চেয়ে বেশি অ্যাসিডিটিক এসিড রয়েছে আপেলে। তাই আমাদের এই ফলটি খাওয়ার সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং যখন তখন এই ফলটি খাওয়া যাবেনা। খাবার খাওয়ার পর বা কোন জিনিস খাওয়ার সাথে এই ফলটি খেতে হবে।
এই আপেলে আমরা মূলত দুই ধরনের এসিডের কথা শুনতে পাই। তার মধ্যে একটি হলো ম্যালিক এসিড এবং অপরটি হল এসকরিক অ্যাসিড। তাই যে সকল ব্যক্তি আপেল খেতে পছন্দ করেন তারা সকলে সতর্কতা বা সাবধান হয়ে যান আপেল খাওয়ার ক্ষেত্রে। যে সকল ব্যক্তির পেটে এসিডের সমস্যা বা গ্যাস সমস্যা রয়েছে , তারা কখনোই এই ফলটি খালি পেটে খাবেন না।
খাবার খাওয়ার সর্বনিম্ন দেড় থেকে দুই ঘন্টা পর আপেল খাবেন। এর ফলে আপনার পেটে কোন প্রকার গ্যাস বা এসিডের সমস্যা তৈরি হবে না। আপনারা সকলেই খেয়াল রাখবেন মাখন দই পনির দুধ এইরকম খাবারে্র সাথে
কখনোই খাবেন না। কারণ এগুলোর সাথে আপেল খেলে আপনার বদ্ধ হজমের সৃষ্টি হতে পারে।
আপেল কত টাকা কেজি ২০২৪
আপেল মূলত এক ধরনের মিষ্টি ফল। যা আমরা কমবেশি সকলেই খেতে অত্যন্ত পরিমাণ পছন্দ করি। আর আমরা সকলেই জানি যে জিনিসটা আমরা বেশি পছন্দ করি সেই জিনিসটা দাম একটু বেশি হয়ে থাকে।আপেলের বাজার মূল্য ২৪০ টাকা। আপেল মূলত তিন ক্যাটাগরির হয়ে থাকে প্রথমটি হল ফুজি আপেল, দ্বিতীয় টি হল গালা আপেল, এবং সর্বশেষ এবং সবচেয়ে দামি যেটা হল সেটা হল সবুজ আপেল। এগুলোই হল মূলত আপেলের প্রকারভেদ। আমরা এখন এই আপেলের দাম কেমন সেটা জানবো। বর্তমান বাজারে এক কেজি ফুজি আপেলের দাম ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা । অপরদিকে এক কেজি গালা আপেলের দাম ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা । এবং সর্বশেষ সবুজ আপেল যার বর্তমান বাজার মূল্য ৩৮০ থেকে ৪১০ টাকা । আমাদের দেশে আরো এক ধরনের আপেল পাওয়া যায় জান টা হল অস্ট্রেলিয়ান আপেল যার বাজার মূল্য বর্তমানে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত।
মূল কথা
আপেল এমন একটি ফল যা মানুষের দেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি বস্তু। সকল জিনিসেরই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে ।আমাদের সকলের সতর্ক থাকতে হবে তার কোন দিক ব্যবহার করব। আপেল খেতে অনেক সুস্বাদু কিন্তু এটি খালি পেটে খাওয়া যায় না সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।
সেই উপকারের বিষয়ে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।। আপেলের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আমরা উপরে বিস্তারিত জানতে পেরেছি। সেগুলো আমরা যদি নিয়ম মেনে খেতে পারি তাহলে আপেল আমাদের জন্য একটি আশীর্বাদ বা নিয়ামক ফল হিসেবে গণ্য হবে। আপেল আমাদের কিন্তু ওজন কমাতে সাহায্য করে কিভাবে সাহায্য করে ওজন কমাতে সেটা আমরা উপরে জানতে পারবো পড়লেই। তাই মূলত এককথায় বলতে পারি যে আপেল আমাদের দৈনন্দিন জীবনে একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ফল।
ধন্যবাদ সবাইকে মনোযোগ সহকারে পোস্টটি পড়ার জন্য।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url